ফেবুর অলি গলি ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখ আটকে গেলো নিচের ছবির দিকে। সুধীর মৈত্র র আঁকা ছবি আনন্দমেলায়। আর তার সাথে কত শত পুরোনো কথা। হ্যাঁ..বছর বিশ .. তা তো হবেই ...
স্ক্রিন এর ভিতর দিয়ে কাগজের টেক্সচার টা পর্যন্ত যেন অনুভব করতে পারছি। .সাথে নাকে এসে লাগছে পুরোনো রদ্দিওয়ালার ডাই করে রাখা কাগজের পানসা গন্ধটা।
নিম্ন মধবিত্ত বাড়িতে না ছিল গল্পের বইয়ের রেওয়াজ না পূজা বার্ষিকী কেনার চল। পাড়া পড়শী চেনা পরিচিতরাও মোটামুটি ছেলেটির বই চেয়ে পড়ার অভ্যাস নিয়ে বিরক্ত। কারণ ছেলেটি সময়মতো বই ফেরৎ দিলেও তার বাড়ির লোক তাদের উপর "যারপরনাই " বিরক্ত।..
ঠিক এরকম একটা সময় হঠাৎ মাথায় ভর করলো সরস্বতী। ..৫ টাকায় কিলো খানেক আনন্দমেলা ,দেশ মায় আনানন্দলোক মিললো পাড়ার রদ্দিওয়ালার দোকানে ....একটু পুরোনো কিন্তু তাতে কি ...সন্তু কাকাবাবু গোগোল কলাবতী কিরীটি কি আর পুরানো হয় ? ....দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবে গিয়েছি সেই সব মনি মুক্তে ..এখনো চোখ বুজলেই মনে পরে সেই স্কুল থেকে ফিরে একা একা এক থালা ভাত খেতে বসা বোকা ছেলেটার কথা,যার ঘরের দেওয়ালে টাঙানো ছবির পিছনেই একটা আস্ত সুড়ঙ্গের হদিস কিংবা ঘুগনীর গামলা কাঁধে তার থেকে বয়েসে একটু বড়ো অন্য একটা ছেলে । আরো মনে পরে সঞ্জীবের ডোরা কাটা জামা বা প্লাটিপ্লাস এর দেশ বা ayrton sena র কথা জানতে পারা প্রথমবার।
এখন চাইলেই কিনতে পারি কিন্তু কোথায় পাবো তাদের। হয়তো তারা এখনো আটকে আছে কোনো পুরানো কোনো রদ্দি ওয়ালা বা কলেজ স্ট্রিট এর বইয়ের দোকানে ..কোনো এক বাবা মা খেদানো বন্ধু হীন কিশোরের অপেক্ষায়
