May 29, 2015

মনোক্রোম 2



ট্রামে পাশাপাশি বসে আছে একজোড়া ছেলে -মেয়ে। ছেলেটা জানলার ধারে। পরনে অফিস ফেরত জামা।মায়েটা সালোয়ার।
ছেলেটি -কি করলে সারাদিন?
মেয়েটি -তোমায় অফিস এ দিয়ে ফিরে রান্না করলাম কিছুটা। চান করলাম ,খেলাম ..তারপর টিউশন পড়াতে গেলাম। সেখান থেকে তোমর অফিস এর বাস ধরলাম ,চলে এলাম ব্যাস ..তুমি?
ছে -এখন আমার কাজ শুধু কল এদিক থেকে ওদিক করা। এই ভালো...
মে -কি ভালো ?
ছে -এই তুমি রোজ আমায় অফিস এ দিয়ে যাও নিয়ে যাও। ....কিন্তু দুবেলা যাতায়াতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। কাল থেকে আমি একাই বেরোব।
মে-কেন আমার সাথে বেরোতে লজ্জা করে ?
ছে -(হেসে)....লজ্জা ??আমার তো চক্ষুলজ্জা ও নেই.... এবার একটা বিয়ে করো।
মে-বাজে বকিস না। রবিবার সকালে ডাক্তার এর ডেট আছে। পরে পরে ঘুমিও না।
ছে -টাকা নষ্ট করতে হয় আমায় দাও না...অনেক দিন মাল খাই নি।
মে -আচ্ছা...আমার জন্মদিনে খায়াব।
ছে -অঃ ..জন্মদিনে খাইয়ে বয়েস ভুলিয়ে রাখতে চাও ?
মে-কে রে আমার। ..কোথায় ছুঁড়ি পাও যাও না ...আটকে রেখেছি নাকি ?
ছে -যেতে পারি। .কিন্তু কেন যাব .?
মে-যাও না। .গালে ঠাং ভেঙ্গে দেব....
মায়েটা নিজের চুল বাঁধবার জন্য ছেলেটাকে নিজের পার্স টা ধরতে দেয়ে। ..বাঁধা হলে পার্স ফিরত চায় ...
মে -দাও ফেরত দাও (হাত পেতে )
ছে -বাবা সব টাকা নিয়ে নিলাম যেন। ...এই নাও। ...
মে-মাতালদের বিশ্বাস নেই।
ছে -(হেসে জানলার দিক থেকে মুখটা ফিরিয়ে )আমাকে  করতে পর at least ...
মায়েটা অসহায় ভাবে তাকায় ছেলেটার দিকে। ...ছেলেটার হাতটা আরো শক্ত করে ধরে ঘনিষ্ট হয়ে বসে মায়েটা। বাকি পথ টা আর কোনো কথা হয় না ওদের।



February 4, 2015

মনোক্রোম 1



কি কারণে যেন সেদিন গিয়েছিলাম কলেজ স্ট্রিট। শীতের দুপুর। ঘড়িতে প্রায় তিনটে। .চারি দিক ঝলমল করছে।নরম রোদ্দুর সেঁকে দিচ্ছে পুরনো বই দের পাতা।ওদিকে গেলেই মনটা ভালো হোযে যায়। কলেজ স্ট্রিট মানেই একটা নতুন সুরুবাদ। কিশোর  বেলার এস এন দে আর জৈব রসায়ন এর অপাপ বিস্মৃতি। 

আস্ত একটা কিংস এর মৌতাত শেষ করে সবে চাযের ভাঁড়ে চুমুক দিয়েছি। তখনই খেয়াল করলাম লোকটাকে।বেঁটেই বলা চলে। রঙ বেশ ময়লা। চোখ ঘোলা। মাঝ বয়েসী। পড়নের জামাকাপড় ও তথৈবচ। আবার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ টাও ততধিক হতশ্রী। কিন্তু এত কিছুর মধ্যে ও পাটকরে আচড়ানো কুচকুচে কালো চুল গুলো চোখে পড়ে। হয়ত কোথাও ফ্যাক্টরি বা জন খাটে। সকালের প্রথম ট্রেন ধরে কলকাতায় আসে আর বিকেল থাকতেই পাড়াগায়ের ট্রেন ধরে শিয়ালদা থেকে।খুব নিচু গলায় দোকানি কে জীগেস করলো"দাদা চা কত ?""বড় পাঁচ.. . ছোটো তিন "চোখ টা তো আগেই চলে গিয়েছিল তাই খেয়াল করলাম দাম শোনার পর কি যেন ভাবলো লোকটা । একটু যেন তাকালো দেচকি তে ফুটন্ত চা এর দিকে।তারপর হটাত করেই হাঁটা দিল। আমি তাকিয়ে ছিলাম লোকটার চলে যাবার দিকে। পায়ে টায়রের চটি। কতদিন সাবান পড়ে নি গোড়ালি গুলোয়। ময়লা জামার নিচ  থেকে ঝুলে আছে একটা রং জলা সোয়েটার।

পৃথিবীর  কিছু মানুষ মনে হয় জামার নিচেই সোয়েটারটা পড়ে ।